ইতিহাস ও ঐতিহ্যে বিএনপি
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে যে পরিবর্তন, সংকট ও পুনর্গঠন ঘটেছে, তার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। স্বাধীনতার মাত্র সাত বছর পর, ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ দলটি দেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জাতীয় স্বার্থরক্ষা এবং জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখে।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পর দেশ রাজনৈতিক অস্থিরতায় নিমজ্জিত হয়। একদলীয় শাসনব্যবস্থা (বাকশাল) ভেঙে পড়ে এবং সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সময়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন ধারা প্রবর্তনের লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন।
বিএনপির মূল দর্শন হলো বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—
১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হলে বিএনপি বড় ধরনের নেতৃত্ব সংকটে পড়ে। এরপর বেগম খালেদা জিয়া দলীয় চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। তিনি দলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করেন এবং এরশাদ সরকারের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন।
১. গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রদূত: সামরিক শাসন ও একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে বিএনপির ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে।
২. বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ: স্বাধীনতার পর জাতীয় পরিচয়ের ভিন্ন মাত্রা প্রতিষ্ঠার প্রয়াস বিএনপির অন্যতম ঐতিহ্য।
৩. নারী নেতৃত্ব: বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ নেতৃত্ব বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নের নজির সৃষ্টি করেছে।
৪. বহুমুখী কূটনীতি: বিএনপি বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করেছে। স্বাধীনতার পরবর্তী রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেছে এ দলটি। নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়েও বিএনপি এখনো দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে বিএনপির ইতিহাস ও ঐতিহ্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে আছে।